নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরে সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে বিএনপির ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২২৫ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পল্লবী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পল্লবী থানায় করা এ মামলায় আসামি হিসেবে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে আরও ১০০-১৫০ জন। এজাহারে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের মুকুল ফৌজ মাঠে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সক্রিয় হলে ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিপেটা ছাড়াও রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম শুক্রবার সমকালকে বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। এরপরও ১০ মিনিটের মতো পুলিশ চুপ ছিল। কিন্তু তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকলে বাধ্য হয়ে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। তাদের আক্রমণে পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার, দু’জন এসআইসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার সাতজন হলেন- তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জসিম রানা, আবদুল্লাহ আল মামুন, এস এম হাবিব, মো. সালাউদ্দিন, নিজাম উদ্দিন ওরফে জসিম, নজরুল ইসলাম ও মো. মেহেদী।
আসামির তালিকায় আরও রয়েছেন- ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাদশা মিয়া, সাবেক সভাপতি সোহরাব হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো. কামাল, রূপনগর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম, পল্লবী থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মজিবুল হক, রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাউছার হামিদ, পল্লবী থানা যুবদলের নেতা মো. মামুন, যুবদল নেতা মো. মোবারক।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম আহমেদ, সাবেক সদস্য সচিব আশরাফুল হোসেন মামুন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা পিয়াস, ফয়সাল দেওয়ান, মো. ফরিদ, পল্লবী থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিমন, রূপনগর থানা ছাত্রদলের নেতা আবুল কাশেম, পল্লবী থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নূর সালামসহ মোট ৭৫ জন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মুকুল ফৌজ মাঠে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা সমাবেশের জন্য গেলে তাদের মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। এতে সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান, এসআই সজিব খান ও এসআই তাপস কুন্ডু গুরুতর আহত হন। বিএনপির বিক্ষোভকারীরা পুলিশের এপিসি (আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে তারা ব্যারিকেড ভেঙে লাঠিসোটা নিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেয়। তখন জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শর্টগান থেকে ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় তারা শর্টগান থেকে ৬২ রাউন্ড রাবার ও ছয় রাউন্ড সীসা বুলেট এবং ২৫ রাউন্ড গ্যাস শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনাস্থল থেকে ৯টি ভাঙ্গা ইটের টুকরা ও সাতটি বাঁশের লাঠি জব্দ করা হয়েছে।
Leave a Reply